ডে-কেয়ার সেন্টার খোলার নিয়ম ২০২৬: শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন
শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১ অনুযায়ী বেসরকারি ডে-কেয়ার চালাতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। কী কী শর্ত, দায়িত্ব ও শাস্তি আছে, আর বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন—সহজ ভাষায় জানুন।
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৬
ডে-কেয়ার সেন্টার খুলতে কি নিবন্ধন লাগে?
হ্যাঁ, লাগে। ডে-কেয়ার সেন্টার খোলার নিয়ম এখন একটি নির্দিষ্ট আইনের অধীনে: শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১ (২০২১ সনের ১০ নং আইন)। এই আইন অনুযায়ী নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনা করতে পারবেন না। আইনটি ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে কার্যকর।
তবে বাস্তব চিত্রটা একটু জটিল। আবেদন পদ্ধতি, ফি, আর্থিক সচ্ছলতা, অবকাঠামোসহ অনেক বিষয় “বিধি দ্বারা নির্ধারিত” হবে বলে আইনে বলা আছে, আর সেই বিধিমালা দীর্ঘদিন ধরে খসড়া পর্যায়ে। ফলে যাঁরা ঢাকা, চট্টগ্রাম বা অন্য শহরে কর্মজীবী মা-বাবার জন্য ডে-কেয়ার চালাচ্ছেন বা নতুন করে খুলতে চান, তাঁদের দুটো বিষয় একসঙ্গে জানা দরকার: আইনে এখনই কী বাধ্যতামূলক, আর বিধিমালা এলে কী কী লাগতে পারে।
এই লেখায় আইনের মূল ধারাগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো, সঙ্গে থাকছে একটি ব্যবহারিক প্রস্তুতি তালিকা। মনে রাখবেন, এটি আইনি পরামর্শ নয়; আবেদনের আগে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিন।
শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১ কাদের জন্য প্রযোজ্য?
আইনে “শিশু” বলতে ৪ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুকে বোঝানো হয়েছে। আর “শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র” মানে যেকোনো ভবন, বাড়ি, নির্ধারিত স্থান, কক্ষ বা আঙিনা, যেখানে শিশু দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। সংজ্ঞাটি বেশ বিস্তৃত, তাই ফ্ল্যাটের দু-তিনটি কক্ষে চালানো ছোট ডে-কেয়ারও এর বাইরে নয় বলে ধরে নেওয়াই নিরাপদ।
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্র খুলতে পারে। সরকার, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পরিচালিত কেন্দ্রের নিবন্ধন লাগে না। এর বাইরে ব্যক্তি উদ্যোক্তা, কোম্পানি, এনজিও, অংশীদারি কারবার—সবাইকে নিবন্ধন নিতে হবে। আইনে “ব্যক্তি” শব্দের মধ্যেই কোম্পানি, ফার্ম ও অন্যান্য সংস্থাকে ধরা হয়েছে।
গার্মেন্টস বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আগে থেকে চালু ডে-কেয়ারের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ আছে: লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ কিছু শর্ত থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। এ ছাড়া সরকার জনস্বার্থে গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোনো শ্রেণির কেন্দ্রকে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা থেকেও অব্যাহতি দিতে পারে।
আইন কার্যকর হওয়ার আগে থেকে যেসব কেন্দ্র চলছিল, আইনে সেগুলোর জন্য ৬ মাসের মধ্যে নিবন্ধন নেওয়ার কথা বলা আছে। বিধিমালা ও আবেদন প্রক্রিয়া স্পষ্ট না থাকায় অনেক উদ্যোক্তা এ নিয়ে দ্বিধায় আছেন, তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে নিজের কেন্দ্রের অবস্থান পরিষ্কার করে রাখা ভালো।
নিবন্ধন সনদ পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে?
আইনের ৭ ধারায় নিবন্ধন পাওয়ার শর্তগুলো বলা আছে। কয়েকটি শর্ত সরাসরি স্পষ্ট, বাকিগুলোর বিস্তারিত বিধিমালায় নির্ধারিত হবে।
নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ৩ বছর; মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ফি দিয়ে নবায়ন করতে হয়। সময়মতো আবেদন করতে না পারলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিলম্ব ফিসহ আবেদনের সুযোগ আছে। সনদ পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু না করলে সনদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
আরও দুটি বিষয় অনেকে খেয়াল করেন না: কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া সনদ অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না, আর কেন্দ্রের ঠিকানাও বদলানো যায় না। অর্থাৎ ভাড়া বাসা বদলানোর মতো করে ডে-কেয়ার হুট করে অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া চলবে না।
আইন অনুযায়ী নিবন্ধন পেতে আবেদনকারীর যা যা লাগবে:
- বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- বিধিমালায় নির্ধারিত আর্থিক সচ্ছলতা থাকতে হবে।
- আদালত দেউলিয়া ঘোষণা করে থাকলে সেই দেউলিয়াত্বের অবসান ঘটতে হবে।
- নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হয়ে থাকলে দণ্ডভোগের পর অন্তত ২ বছর পার হতে হবে।
- নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।
- নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী থাকতে হবে।
- নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত অবকাঠামো বা স্থাপনা থাকতে হবে।
- বিধিমালায় নির্ধারিত অন্য যেকোনো শর্তও মানতে হবে।
বিধিমালার সর্বশেষ অবস্থা কী? খসড়ায় কী প্রস্তাব ছিল
আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করবে, আর আবেদনের ফরম, ফি ও বিস্তারিত শর্ত আসবে বিধিমালা থেকে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২২ সালে একটি খসড়া বিধিমালা তৈরি করেছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, খসড়াটি তখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে। ২০২৫ সালে আইএলও ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সমীক্ষাতেও বলা হয়েছে, বিধিমালা প্রণীত না হওয়ায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ সীমিত।
বেসরকারি উদ্যোক্তারা তখন বলেছিলেন, ফির ঊর্ধ্বসীমা ও জায়গার শর্ত বাস্তবসম্মত নয়। চূড়ান্ত বিধিমালায় কী থাকবে, তা গেজেট প্রকাশের পরই নিশ্চিত হবে। তাই নতুন জায়গা ভাড়া নেওয়া বা বড় বিনিয়োগের আগে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (mowca.gov.bd), মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর (dwa.gov.bd) বা বাংলাদেশ আইন পোর্টালে (bdlaws.minlaw.gov.bd) সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন দেখে নিন।
২০২২ সালে খসড়া বিধিমালার যেসব প্রস্তাব নিয়ে পত্রিকায় খবর এসেছিল, সেগুলো নিচে দেওয়া হলো। এগুলো চূড়ান্ত নয়, বদলাতেও পারে; তবু নিয়ম কোন দিকে যেতে পারে তার একটা ধারণা দেয়:
- আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ টাকা থাকা।
- নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা; প্রতি তিন বছর পর নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা।
- কেন্দ্রের আয়তন ন্যূনতম ৩,০০০ বর্গফুট, শিশুপ্রতি গড়ে ৫০ বর্গফুট জায়গা।
- লিফট না থাকলে চারতলার ওপরে কেন্দ্র না করা।
- সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেবা এবং দিনে তিন বেলা খাবার।
- আয়ভেদে মাসিক সেবামূল্যের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া।
বিধিমালা না এলেও আইনে এখনই কোন দায়িত্বগুলো বাধ্যতামূলক?
অনেকে ভাবেন, বিধিমালা যেহেতু আসেনি, এখন কিছুই মানতে হবে না। এটি ভুল ধারণা। আইনের বেশ কিছু দায়িত্ব সরাসরি লেখা আছে, আর পরিদর্শক যেকোনো সময় কেন্দ্রে এসে লগ বুক, নথিপত্র ও বিল দেখতে এবং কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।
আইনের ২৭ ধারায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে: কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া অপরাধের ভিডিও, ছবি বা ডিজিটাল রেকর্ড আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তাই সিসিটিভি ফুটেজ কত দিন সংরক্ষণ করবেন, কে দেখতে পারবেন—এ বিষয়ে একটি লিখিত অভ্যন্তরীণ নিয়ম রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
যে দায়িত্বগুলো এখন থেকেই অভ্যাসে আনা উচিত:
- সেবামূল্য (সার্ভিস চার্জ) কেন্দ্রের দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখা।
- নিবন্ধনবহি রাখা: কেন্দ্রের নাম-ঠিকানা, প্রতিষ্ঠার তারিখ, পরিচালক ও কর্মীদের পরিচিতি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা।
- আয়-ব্যয়ের হিসাব লিখিত বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ; বছর শেষে সরকার স্বীকৃত নিরীক্ষা ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষিত প্রতিবেদন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো।
- শিশুকে কেবল অভিভাবক বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধির কাছ থেকে গ্রহণ করা এবং নির্দিষ্ট সময়ে তাঁদের কাছেই হস্তান্তর করা।
- প্রতিটি শিশুর যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করা।
- স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিনোদন ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা; বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া।
- প্রয়োজনে প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও কেন্দ্রের চারপাশে দীর্ঘ সময় ভিডিও ধারণে সক্ষম নাইট ভিশন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো।
- প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা।
নিয়ম না মানলে শাস্তি কতটা কঠোর?
শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইনের শাস্তির বিধান বেশ কড়া, এবং এই আইনের অপরাধ মোবাইল কোর্টেও বিচারযোগ্য। কোম্পানির নামে কেন্দ্র চললে অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত পরিচালক বা কর্মকর্তাও দায়ী হতে পারেন, যদি না তিনি প্রমাণ করেন যে অপরাধটি তাঁর অজ্ঞাতে ঘটেছে বা তিনি প্রতিরোধে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
এ কারণেই শিশু হস্তান্তরের খাতা আর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নথি শুধু কাগুজে আনুষ্ঠানিকতা নয়, আপনার নিজের সুরক্ষাও। আইনের গুরুত্বপূর্ণ দণ্ডগুলো এক নজরে:
- নিবন্ধন ছাড়া কেন্দ্র পরিচালনা: অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড, অথবা ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড; একই অপরাধ আবার করলে দ্বিগুণ দণ্ড।
- শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে এমন কাজ: অনূর্ধ্ব ২ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়।
- কর্তব্যে অবহেলায় শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়লে বা স্বাস্থ্যহানি হলে: অনূর্ধ্ব ২ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়।
- শিশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ: অন্যূন ২ মাস কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়।
- কেন্দ্র থেকে শিশু নিখোঁজ বা হারিয়ে গেলে: অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
- সংক্রামক রোগের ঝুঁকি অভিভাবকের কাছে গোপন করা বা প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেওয়া: অনূর্ধ্ব ৬ মাস কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়।
- পরিদর্শকের নির্দেশ অমান্য বা কাজে বাধা: অনধিক ৫০ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা।
এখন থেকেই কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন: ধাপে ধাপে চেকলিস্ট
বিধিমালা যেদিনই আসুক, যাঁদের কাগজপত্র গোছানো থাকবে তাঁরাই সবার আগে আবেদন করতে পারবেন। তা ছাড়া এই অভ্যাসগুলো অভিভাবকদের আস্থাও বাড়ায়, যা ডে-কেয়ারের সবচেয়ে বড় পুঁজি।
রেকর্ডগুলো খাতায় রাখা যায়, তবে শিশুর সংখ্যা বাড়লে ডিজিটাল ব্যবস্থাই সহজ। যেমন Eduminika-র ব্যবস্থাপনা প্যানেলে শিশু ও অভিভাবকের তথ্য, কর্মীদের তালিকা, সাপ্তাহিক খাবারের মেনু আর অভিভাবক সভাসহ ইভেন্ট ক্যালেন্ডার এক জায়গায় রাখা যায়; সঙ্গে বিনা খরচে কেন্দ্রের একটি পেশাদার ওয়েবসাইটও পাওয়া যায়। কোন টুল ব্যবহার করবেন সেটা আপনার সিদ্ধান্ত—মূল কথা হলো তথ্য যেন গোছানো ও হালনাগাদ থাকে।
যে ধাপগুলো আজই শুরু করা যায়:
- bdlaws.minlaw.gov.bd থেকে আইনের পূর্ণ পাঠ নামিয়ে নিজে একবার পড়ুন এবং কর্মীদের নিয়ে আলোচনা করুন।
- জায়গা বাছাইয়ে খসড়ার প্রস্তাবগুলো মাথায় রাখুন: পর্যাপ্ত আয়তন, নিচের দিকের তলা, আলো-বাতাস, নিরাপদ সিঁড়ি ও জরুরি বহির্গমন।
- ভাড়ার চুক্তিতে ডে-কেয়ার হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি স্পষ্ট করে লিখিয়ে নিন; নিবন্ধনের পর ঠিকানা বদলানো সহজ নয়।
- প্রত্যেক কর্মীর জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত ও প্রশিক্ষণ সনদ এবং যোগদানের তারিখ একটি ফাইলে রাখুন।
- প্রতিটি শিশুর ভর্তি ফরম, অভিভাবক ও মনোনীত প্রতিনিধির ছবি ও পরিচয়, জরুরি যোগাযোগ নম্বর, অ্যালার্জি ও টিকার তথ্য হালনাগাদ রাখুন।
- শিশু গ্রহণ ও হস্তান্তরের দৈনিক খাতা চালু করুন: সময়, কে দিয়ে গেলেন, কে নিয়ে গেলেন।
- সেবামূল্যের তালিকা বোর্ডে টাঙান, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতি মাসে মিলিয়ে রাখুন এবং বছর শেষের নিরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
- প্রতি তিন মাসের অভিভাবক সভার তারিখ আগেই ক্যালেন্ডারে ঠিক করে রাখুন এবং সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা: ডে-কেয়ার নিবন্ধন নিয়ে যা জানতে চান
নিবন্ধনের আবেদন কোথায় করব? আইনে বলা আছে, সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে। আবেদনের আগে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বা আপনার জেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জেনে নিন বর্তমানে কোন দপ্তর আবেদন নিচ্ছে এবং কোন ফরম লাগবে।
বাসায় অল্প কয়েকটি শিশু দেখাশোনা করলেও কি নিবন্ধন লাগবে? আইনের সংজ্ঞায় একটি কক্ষ বা আঙিনাও “শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র” হতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে টাকার বিনিময়ে অন্যের শিশুদের দিনের বেলা রাখলে বিষয়টি আইনের আওতায় পড়তে পারে। আত্মীয় বা প্রতিবেশীর অনানুষ্ঠানিক সাহায্য আর ব্যবসায়িক সেবার পার্থক্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরামর্শ নিন।
প্রি-স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনের সঙ্গে ডে-কেয়ার চালালে কোন নিয়ম মানব? দিবাযত্নের অংশটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইনের বিষয়, আর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালার বিষয়। দুটো একসঙ্গে চালালে দুই দিকের শর্তই খেয়াল রাখুন।
সংক্ষেপে: আইন কার্যকর, নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, শাস্তি কঠোর—কিন্তু বিস্তারিত বিধিমালার অপেক্ষা এখনো চলছে। এই সময়টা কাজে লাগান নথিপত্র, নিরাপত্তাব্যবস্থা আর অভিভাবকদের আস্থা গুছিয়ে নিতে।
আপনার প্রি-স্কুলের ওয়েবসাইট, ৫ মিনিটেই প্রস্তুত
Eduminika দিয়ে একটি বিনামূল্যের সাবডোমেইনে পেশাদার ওয়েবসাইট তৈরি করুন — খাবারের মেনু, ইভেন্ট ক্যালেন্ডার এবং আরও অনেক কিছু মিনিটেই পরিচালনা করুন।
বিনামূল্যে শুরু করুন